সকল মেনু

বিদ্যুতের ভেলকিবাজি ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপাকে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

বিদ্যুতের ভেলকিবাজি কেরানীগঞ্জে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ। দিনরাত ২৪ ঘন্টায় ১০ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকেনা। বিপাকে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।
গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং শুরু হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। এছাড়া দিন ও রাত মিলে প্রতিদিন ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
উপজেলার দুটি সংসদীয় আসনের ১২টি ইউনিয়নে সমানভাবে বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও রাতে লোডশেডিং করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের প্রায় ২০ লক্ষ সাধারণ মানুষের।
হঠাৎ এই লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের।
ইউনাইটেড স্কুল এন্ড কলেজ কদমতলী শাখার এসএসসি পরীক্ষার্থী রাজিন হোসেন জানায়, সারাদিনে ৫ থেকে ৬ বার বিদ্যুতের লোডশেডিং হয়। একবার চলে গেলে এক ঘন্টাও আসে না। অনেক সময় দেড় ঘন্টাও বিদ্যুৎবিহীন বসে থাকতে হয়।একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে ভয়াবহ বিদ্যুৎ লোডশেডিং এই দুইটা মিলে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে। একদিন পরেই আমাদের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে, এর মধ্যে ঘনঘন লোডশেডিং শুরু হয়েছে। সকাল, বিকাল ও রাতে যখনই পড়তে বসি তখনই বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে আমার মতো পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার আগেই এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে তা ভাবিনি। পরীক্ষা চলাকালীন সময়েও যদি এ অবস্থা হয় তাহলে ব্যাপক ক্ষতি হবে।
জিনজিরা ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফাতেমা আমিন একা জানায়, জিনজিরার আমিরা বাগ, দিনে ৪/৫ বার বিদ্যুৎ যায়। গেলে আর আসার খবর থাকে না। প্রতিদিন এক দেড় ঘন্টা করে ৪-৫ ঘন্টা লোডশেডিং থাকে। আগানগরের গৃহবধূ এলিজা রাত্রি জানায়,আগানগর ছোট মসজিদ ও ইস্পাহানি এলাকায় বিদ্যুত লোডশেডিংয়ের ভয়াবহ অবস্থা। স্কুলের শিশুরা ঠিকমত ক্লাস করতে পারে না। যারা মাদ্রাসায় থাকে তাদের আরও বেশি করুন অবস্থা। তাদের থাকা, খাওয়া ঘুম পড়া সব সংকটে। এলাকায় জেনারেটর সার্ভিস না থাকায় দিনেও রাতে অর্ধেক সময় অন্ধকারে থাকতে হয়। খেজুরবাগ এলাকার বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুতের যাওয়া আসার সময়ের হিসাব জানা নাই। তবে যেটা দেখি দুপুরে ৩.৫ ঘন্টা এবং রাতে ২/৩ ঘন্টার মতো বিদ্যুৎ থাকে না। বেগুনবাড়ি এলাকার গৃহবধূ রাজিয়া হোসেন জানায় বিদ্যুৎ যেন হোমিওপ্যাথি ডাক্তার। তিন ঘন্টা পর পর এক ডোজ।
স্থানীয় সাংবাদিক সবুজ মনির জানায়, আটি বাজার এলাকায় এক ঘন্টা পর পর বিদ্যুতের লোডশেডিং হয়। এভাবে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘন্টা লোডশেডিং থাকে। কালিন্দী ইউনিয়নের আব্দুস সুবহান সেলিম জানায়, তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ একদম থাকে না। একবার চলে গেলে আসার খবর নাই।
শুভাঢ্যা ইউনিয়নের এস কে সুমন জানায়, সত্যি কথা বলতে বিদ্যুৎ আমাদের এখন মেহমান। মাঝে মাঝে আসে কিছুক্ষণ থেকে চলে যায়।
গোলাম বাজার এলাকার হাবিবা আলভী জানান, তিন ঘন্টা পরে বিদ্যুৎ এসেছিল পাঁচ মিনিট থেকে চলে গিয়েছে আবার। আমরা বিদ্যুৎ এর লোড সেডিংয়ে অতিষ্ঠ । কোন্ডা ইউনিয়নের আতাউর রহমাান জানায়, কোন্ডা ইউনিয়নে বিদ্যুতের নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে, বিদুৎতের লোডশেডিং কারনে এলাকার চাষীদের নাকাল অবস্থা। জমিতে পানি দেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। আগানগর ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি মোঃ শাকিল জানায়, আগানগর ইউনিয়নে গতকাল রাত একটা থেকে তিনটা পর্যন্ত কারেন্ট ছিল না। এ ঘটনা মাঝেমধ্যে হয়ে থাকে।
কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হাজী আনোয়ার হোসেন জানান,
তাদের গার্মেন্টস পল্লী এলাকায় ৫ থেকে ৬ লক্ষ শ্রমিক তৈরি পোশাক উৎপাদন কেন্দ্রে কাজ করে। নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় কাজের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। শ্রমিকদের বসিয়ে রেখে বেতন দিতে হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যাপক লোকসানে পরবে ব্যবসায়ীরা।
ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ এর ডিজিএম মোঃ গোলাম কাওসার তালুকদার আমার দেশকে জানান, ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৪ এর আওতাধীন
হাসনাবাদ জোনাল অফিস,শুভাঢ্যা জোনাল অফিস, কলাতিয়া জোনাল অফিস,আব্দুল্লাহপুর জোনাল অফিস, আটিবাজার জোনাল অফিস ও
রুহিতপুর সাব-জোনাল অফিসের মাধ্যমে কেরানীগঞ্জে প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ বৈধ বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে। এরমধ্যে ৩ লক্ষ ৯১ হাজার ২৮ জন রয়েছেন আবাসিক গ্রাহক। বাকিরা বাণিজ্যিক গ্রাহক। মোট আয়তন ১৭৮ বর্গ কিলোমিটার। তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জ উপজেলায় প্রতিমুহূর্তে চাহিদা রয়েছে গড়ে ১৮০ থেকে ২২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। সারাদিনে ঘাটতি রয়েছে ২৫ থেকে ৩০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কম থাকায় আমরা কম পাই। তবে ঢাকা অঞ্চল হিসেবে সারাদেশ থেকে সমন্বয় করে ঢাকা ও ঢাকার আশেপাশে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে গ্রাম অঞ্চলের চেয়ে ঢাকার লোকজন বিদ্যুৎ বেশি সরবরাহ পেয়ে থাকেন। তিনি বলেন এই পরিস্থিতি বেশিদিন থাকবে না। নতুন সরকার নিশ্চয়ই নীরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে কাজ করবেন।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

TOP
SECURITY ALERT
🛡️
“কেরানীগঞ্জের কণ্ঠ”
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। এটি একটি AI ভিত্তিক কনটেন্ট প্রোটেক্ট সিস্টেম যা আপনার কার্যকলাপ মনিটর করছে। ভবিষ্যতে অনুমতি ছাড়া কপি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।