মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ভীতিকর বিস্তার এড়িয়ে যেতে তেহরান ও ওয়াশিংটন দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। আসছে শুক্রবার ইসলামাবাদে উভয় পক্ষকে পরবর্তী আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছে পাকিস্তান। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ১০ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ইরানের কাছ থেকে আমরা একটি ১০ দফার প্রস্তাব পেয়েছি। আমি মনে করি এটা কাজের উপযুক্ত, যার ওপর ভিত্তি করে আলোচনা হতে পারে। অতীত বিবাদের নানাক্ষেত্রের প্রায় সবগুলোতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একমত হয়েছে, তবে চুক্তি চূড়ান্ত ও পরিপূর্ণ করতে কাজে লাগবে দুই সপ্তাহের বিরতি।’ সব অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানে আবার আক্রমণ না করার নিশ্চয়তা ও স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য জাহাজপ্রতি ২০ লাখ ইউএস ডলার ফি প্রদানÑ ইরানের প্রস্তাবে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যুক্তরাষ্ট্র কি মেনে নেবে? ১০ দফার প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্পর্শকাতর বিষয়ের
মধ্যে রয়েছেÑ মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া। ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে ১০ দফার ফরসি সংস্করণে ‘পরমাণু সমৃদ্ধকরণ মেনে নেওয়া’ কথাগুলো রয়েছে, কিন্তু কোনো কারণে ইংরেজি সংস্করণে তা নেই বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দি গার্ডিয়ান। ইংরেজি সংস্করণটি ইরানি কূটনীতিকরা সরবরাহ করেছেন সাংবাদিকদের কাছে। সেক্ষেত্রে ১০ দফার প্রস্তাবে এটিও একটি। এছাড়া ইরান দাবি করেছে যে ইসলামাবাদে সমঝোতা হওয়া প্রতিটি বিষয়কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি ‘বাধ্যতামূলক রেজোল্যুশন’ হিসেবে পাস করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ এর থেকে সরে যেতে না পারে।
ব্রিটিশ দৈনিক মিররে প্রকাশিত ইরানের ১০ দফা ১. ইরানকে ফের আক্রমণ না করার নিশ্চয়তা, ২. কেবল যুদ্ধবিরতি নয়, যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি, ৩. লেবাননে ইসরায়েলি হামলার অবসান, ৪. ইরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব অবরোধ প্রত্যাহার, ৫. ইরানের মিত্রদের বিরুদ্ধে যাবতীয় আঞ্চলিক যুদ্ধের অবসান, ৬. বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে ইরান, ৭. প্রত্যেক জাহাজের জন্য ২০ লাখ ইউএস ডলার হরমুজ ফি আরোপ করবে ইরান, ৮. ওমানের সঙ্গে এই ফি ভাগ করে নেবে ইরান, ৯. নিরাপদে হরমুজ দিয়ে চলাচলের বিধিবিধান তৈরি করবে ইরান এবং ১০. ক্ষতিপূরণ হিসেবে পুনর্গঠনের কাজে হরমুজ ফি ব্যবহার করবে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পরে ঘোষণা করেছেন, দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচল সম্ভব হবে। তবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতা বিবেচনায়।
প্রশ্ন হচ্ছে, ইরানের এই ১০ শর্ত যুক্তরাষ্ট্র মানবে কিনা। এগুলো মানলে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য থাকবে না। আগেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের এ ধরনের শর্ত নাকচ করে দিয়েছিলেন। এবার কি তিনি সম্মত হবেন? ইরানের শর্ত সম্পর্কে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি ট্রাম্প। যদিও বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে সহযোগিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ইরানি প্রস্তাব মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে এ প্রস্তাব।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।